নিয়োগ: আপাতদৃষ্টি ও যা বলা হয়নি
সুজয় পল, একজন কম পরিচিত বিচারক, আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দ্য হিন্দু স্ট্যান্ডার্ড নিয়মকানুনগুলো জানিয়েছে – শপথ গ্রহণ, প্রথাগত ঘোষণা। কিন্তু সত্যি কথা কী, এটা শুধু ক্ষমতার হস্তান্তর নয়; এটা ঘটছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। পশ্চিমবঙ্গ একটি রাজনৈতিক বিদ্বেষ, দুর্নীতির অভিযোগ এবং একটি বিচার বিভাগ ক্রমবর্ধমানভাবে caught in the crossfire-এর মধ্যে থাকা একটি ‘প্রেসার কুকার’। তাই, পল-এর নির্বাচনকে একটি সাধারণ সংবাদ প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক বেশি কঠোরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: একটি মাইনফিল্ড, সিরিয়াসলি
আমরা মমতা ব্যানার্জির পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কথা বলছি। আর কিছু বলার দরকার আছে? তৃণমূল সরকার রাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর দৃঢ়ভাবে প্রভাব ফেলার একটি ইতিহাস রাখে। হাইকোর্ট বিশেষভাবে একটি যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে রাজ্যের সরকার, সিবিআই তদন্ত এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ সহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক पंचायत নির্বাচন এবং পরবর্তী সহিংসতা বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পল এই গোলমেলে পরিস্থিতিতে প্রবেশ করছেন। তিনি এটা উত্তরাধিকার করছেন। এবং প্রশ্ন শুধু এই নয় যে তিনি এটি নেভিগেট করতে পারবেন কিনা, বরং তিনি করবেন কিনা।
পল-এর প্রোফাইল: হিসাব করা পছন্দ নাকি আন্তরিক সুযোগ?
পল কোনো ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ নন। তিনি যুগান্তকারী রায় বা জোরালো ভিন্নমতের জন্য পরিচিত নন। এটি নিজেই তাৎপর্যপূর্ণ। তাকে কি বিশেষভাবে এই কারণে বেছে নেওয়া হয়েছে? একজন কম confrontational প্রধান বিচারপতিকে সম্ভবত রাজ্যের সরকারের সাথে একটি মসৃণ কাজের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আরও বেশি amenable মনে করা হতে পারে। এটাই অস্বস্তিকর প্রশ্ন। তবে, এটি একটি সুযোগও উপস্থাপন করে। একটি স্থিতিশীল হাত, পদ্ধতিগত সঠিকতার উপর মনোযোগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার – এগুলো পল-এর শক্তি হতে পারে। তিনি সেতু তৈরি করতে পারেন, বিচার বিভাগে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারেন এবং নীরবে, কার্যকরভাবে তার স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে পারেন। তবে, এর জন্য ইস্পাতের মেরুদণ্ড প্রয়োজন।
সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র: যেখানে রাবার রাস্তা স্পর্শ করে
ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলা বড় আকারে আসছে। সরকারি চাকরির নিয়োগে alleged irregularities-এর তদন্ত – যা জন অসন্তোষের একটি প্রধান উৎস – একটি মূল পরীক্ষা হবে। বিভিন্ন দুর্নীতি allegations-এর উপর চলমান সিবিআই তদন্তগুলি সাবধানে পরিচালনা করতে হবে। এবং, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আদালত নির্দেশগুলি এড়ানোর বা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য রাজ্য সরকারের যেকোনো প্রচেষ্টা… দেখুন, আমরা দেখব। এই চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি পল-এর প্রতিক্রিয়া তার কার্যকাল সংজ্ঞায়িত করবে। কোনো দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হওয়া যেকোনো পদক্ষেপ তাদের উৎসাহিত করবে যারা বিচার বিভাগকে দুর্বল করতে চায়। এখানে optics-কে অবহেলা করবেন না।
মূল বিষয়: একটি উচ্চ-স্টেক গেম
সুজয় পল-এর নিয়োগ শুধু একটি আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক খেলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তিনি একটি ঘুঁটি হবেন নাকি খেলোয়াড়, তা এখনও দেখার বিষয়। তাকে অবশ্যই দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করতে হবে যে কলকাতা হাইকোর্ট স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষভাবে এবং আইনের শাসনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের সাথে কাজ করবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জনগণের প্রতি এটি কমতি হবে এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ধাক্কা। আ Bhi toh khel shuru hua hai. (The game has just begun.)