ট্রাম্পের তেহরান চাল: হিসাব করে করা উস্কানি নাকি মরিয়া সংকেত?

geopolitics
ট্রাম্পের তেহরান চাল: হিসাব করে করা উস্কানি নাকি মরিয়া সংকেত?

‘অধিকার কর’ নির্দেশ: শুধুই গরম হাওয়া কি?

সরাসরি বলা যাক। ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নাও, সাহায্য আসছে’ – এটা সাধারণ কূটনৈতিক সৌজন্য নয়। এটা সরাসরি শাসন পরিবর্তনের উৎসাহ, একদম সোজা কথা। আর এটা এমন একজন ব্যক্তির মুখ থেকে আসছে যিনি অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। হিন্দু-র প্রতিবেদনটি নির্ভুল – এটা কোনো সূক্ষ্ম ইঙ্গিত নয়; এটা হলো পুরোthrottle-এ ধাক্কা। সময়টা ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে এবং ধর্মতন্ত্রের প্রতি ক্ষোভের কারণে চলমান বিক্ষোভের সাথে মিলে যাচ্ছে। এটি বিদ্যমান অস্থিরতা বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

বার্তাটির পাঠোদ্ধার: সংকেত ও উদ্দেশ্য

এখানে আসল খেলাটা কী? বেশ কয়েকটি সম্ভাবনা আছে, সবগুলোই সমানভাবে উদ্বেগজনক। প্রথমত, এটি ইরানের আরও অস্থিতিশীল করার একটি হিসাব করা প্রচেষ্টা হতে পারে, যার মাধ্যমে এর আঞ্চলিক প্রভাব দুর্বল হয়ে যাবে এবং সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা যাবে। মনে করুন JCPOA 2.0, কিন্তু অনেক বেশি কঠোর শর্তের সাথে। দ্বিতীয়ত, এটি ইরানের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ – সৌদি আরব, ইসরায়েল, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি সংকেত হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে নিয়ন্ত্রণ করার তাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক। এটি একটি বিপজ্জনক প্রক্সি escalations-এর খেলা। তৃতীয়ত, এবং সম্ভবত সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এটি একটি সত্যিকারের ইঙ্গিত হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে ইচ্ছুক, যদিও পরোক্ষভাবে, একটি শাসন পরিবর্তনকে সমর্থন করার জন্য। ‘সাহায্য আসছে’ অংশটি হলো মূল বিষয় – কী ধরনের সাহায্য? আর্থিক? লজিস্টিক? নাকি আরও কিছু…কার্যকর?

ইরানের প্রতিক্রিয়া: প্রত্যাশা করুন প্রতিরোধ ও দমন-পীড়ন

ইরানের শাসন সহজে নতি স্বীকার করবে না। তারা এটিকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সুস্পষ্ট হস্তক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরবে, তাদের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি মরিয়া প্রচেষ্টা হিসেবে দেখবে। প্রত্যাশা করুন মার্কিন-বিরোধী বাগাড়ম্বর বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হবে। বিক্ষোভগুলো তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, এটি একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন নয়। শাসন এই সুযোগটি কাজে লাগাবে, বিক্ষোভকারীদের ‘মার্কিন পুতুল’ হিসেবে চিহ্নিত করবে এবং আরও কঠোর দমন-পীড়নের ন্যায্যতা দেবে। আমরা সম্ভবত আরও বেশি সেন্সরশিপ, ইন্টারনেট শাটডাউন এবং সরকারি ভবন দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখতে পাব। IRGC (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হবে এবং মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: একটি বিস্ফোরক কৌতূহল

এটা শুধু ইরানের বিষয় নয়। এর পুরো অঞ্চলের জন্য বিশাল প্রভাব রয়েছে। একটি অস্থিতিশীল ইরান সৌদি আরবের সাথে একটি প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করতে পারে, ইয়েমেনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করতে পারে। রাশিয়া এবং চীন, উভয়ই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, মার্কিন হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাবে এবং সম্ভবত ইরানি শাসনের প্রতি তাদের সমর্থন বাড়াতে পারে। Strait of Hormuz, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ choke point, আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। একটি ভুল হিসাব – একটিমাত্র ঘটনা – সহজেই একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে escalate করতে পারে।

পদক্ষেপের সম্ভাবনা মূল্যায়ন: একটি উচ্চ-ঝুঁকির জুয়া

যদিও ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর প্রায়শই অতিরঞ্জিত, এই বিবৃতির সম্ভাব্য পরিণতি খুবই বাস্তব। একটি দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধের সম্ভাবনা বিবেচনা করে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কম। তবে, বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য গোপন সহায়তা, সাইবার আক্রমণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সবই আলোচনার টেবিলে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরানকে ছাড় দিতে চাপ দিতে চাইবে, তবে অপ্রত্যাশিত পরিণতির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এটা একটা উচ্চ- Stakes-এর জুয়া, এবং বিশ্ব – খুবই মনোযোগ সহকারে দেখছে। সত্যি বলতে, এটা একটা রক্তপাত হওয়া বিশৃঙ্খলা ঘটার অপেক্ষায় আছে। আচ্ছা? আমাদের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এবং আমি যেকোনো পরিস্থিতির কথাই বলছি।