শিশুপালগড়: यूपीएससी-র টিক-বক্সের বাইরে - একটি ভূ-রাজনৈতিক সতর্কবার্তা?

geopolitics
শিশুপালগড়: यूपीएससी-র টিক-বক্সের বাইরে - একটি ভূ-রাজনৈতিক সতর্কবার্তা?

শিশুপালগড়: কেবল একটি ‘ভুলে যাওয়া রাজধানী’ নয়

इंडियन এক্সপ্রেস-এ পট্টানাইকের নিবন্ধটি বেশ ভালোভাবে ভিত্তি স্থাপন করেছে – শিশুপালগড়, প্রাচীন কলিঙ্গের প্রাক্তন রাজধানী, অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধেরও আগে বিদ্যমান ছিল, এবং এর কৌশলগত অবস্থানও উল্লেখ করা হয়েছে। চলো, ভালো শুরু! কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, এটিকে একটি यूपीएससी সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিবন্ধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটা একটা বিশাল ভুল বোঝাবুঝি। তারিখ এবং রাজবংশের মুখস্থ করার বাইরেও আমাদের এই স্থানটি আমাদের কী বলছে তা বিশ্লেষণ করতে হবে - ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতা প্রদর্শন এবং ভূ-রাজনৈতিক চালবাজি সম্পর্কে।

কলিঙ্গের সামুদ্রিক শক্তি: একটি বিস্মৃত উপাদান

নিবন্ধটিতে জোনকা নদীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি প্রায় لم বলা হয়নি যে কলিঙ্গ পূর্ব উপকূলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। এটা কেবল অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য রুটের কথা নয়; এটা ছিল সামুদ্রিক আধিপত্যের কথা। ভাবুন তো: একটি শক্তিশালী কলিঙ্গ রাজ্য, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করে, কার্যকরভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান সামুদ্রিক শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারত। কলিঙ্গ যুদ্ধ কেবল অশোকের ধর্মান্তরের বিষয়ে ছিল না; এটি ছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের বাণিজ্য এবং সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণকে হুমকির মুখে ফেলা একটি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক শক্তিকে দমন করার বিষয়ে। সিরিয়াসলি, বন্ধুরা, সূত্রগুলো সংযোগ করুন!

ভূ-রাজনীতি তখন, ভূ-রাজনীতি এখন

এখানে আসল বিষয়: ওড়িশা, আধুনিক রাজ্য যা শিশুপালগড় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, কৌশলগতভাবে অত্যাবশ্যক রয়ে গেছে। এর দীর্ঘ উপকূলরেখা, প্রচুর খনিজ সম্পদ (লোহা, ক্রোমাইট – খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাত উৎপাদনের জন্য) এবং ক্রমবর্ধমান বন্দর পরিকাঠামো রয়েছে। ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়ন এবং বঙ্গোপসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সরাসরি ওড়িশার ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্যকে প্রভাবিত করছে। কলিঙ্গের ক্ষমতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট – এর সামুদ্রিক শক্তি, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ – উপেক্ষা করা একটি বিশাল কৌশলগত দুর্বলতা।

চীন ফ্যাক্টর ও সম্পদ নিরাপত্তা

সরাসরি বলা যাক: চীন ভারতীয় মহাসাগরে সম্পদ অর্জনের জন্য আগ্রাসীভাবে চেষ্টা করছে। ওড়িশার খনিজ সম্পদ এটিকে একটি প্রধান লক্ষ্য করে তুলেছে। কলিঙ্গের ক্ষমতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝা – ক্ষমতা প্রদর্শনের এবং এর সম্পদ রক্ষার ক্ষমতা – আধুনিক ভারতের জন্য মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করে। ওড়িশার পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ করা, এর উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং এই অঞ্চলে চীনের প্রভাবকে সক্রিয়ভাবে মোকাবেলা করা আমাদের প্রয়োজন। এটা প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে নয়; এটা ভারতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার বিষয়ে। পট্টানাইকের নিবন্ধটি একটি ঝলক দেখায়, তবে আমাদের আরও শক্তিশালী এবং কৌশলগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন।

ধ্বংসাবশেষের বাইরে: একটি পদক্ষেপের আহ্বান

শিশুপালগড় কেবল ধ্বংসাবশেষের স্তূপ নয়। এটি একটি শক্তিশালী রাজ্যের একটি অনুস্মারক যা একসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত। আমাদের এই স্থানটির অগভীর বোঝাপড়া থেকে বেরিয়ে আসা উচিত এবং আমাদের আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক কৌশলকে অবহিত করতে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে কাজে লাগাতে হবে। আচা? কলিঙ্গের ঐতিহ্য যেন আবার ভুলে না যাই। আমাদের এর ক্ষমতা, এর সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং এর সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বুঝতে হবে – এবং ২১ শতকে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় সেই শিক্ষাগুলো প্রয়োগ করতে হবে। বাস, হয়ে গেল।